সান্ধ্য প্রলাপ, দিনলিপি
সারাটা বিকেল জুড়ে মেঘলা আকাশ। সারাটা সন্ধে ভেসে গেল, হু হু করা বাতাসের
ডানার ঝাপটায়। এও কি তবে আসন্ন চৈত্রের ইঙ্গিত? পরিত্রাণহীন ভাবে একবুক হলুদ পাতার
ভিতর ক্রমাগত ডুবে যাওয়া। মাঘের বিকেল জুড়ে বিশ্রী শীতার্ত বাতাস, বৃষ্টি, হিম,
সুনসান পথ। এই দেশে লোকশ্রুতি, মাঘে মেঘে দেখা হলে মাটির গর্ভ সঞ্চার হয়। এয়োতিরা
উলুধ্বনি করে। উদ্ভিদ-জীবন পায় ফের ঐ নবীন তৃণরূপ। এই প্রকৃতি বড় বেশী শস্য-উদার।
তথাপি মানব-জীবনই কেবল পোশাক বদলের রীতি বহে যায়, -- ভাবলে মন-খারাপ হয়ে যায়। বিশ্বাসহীনতার
ছায়ায় ভাসতে ভাসতে,নিজের সাথেই দেখা নেই কতকাল।
তবু, শেষবার চিঠি লিখি,--ফিরে এসো; সাথে এনো গ্রীষ্মের উত্তাপ। স্থিরচিত্রে
সঠিক থাকে কি কিছু অবনত ভারে? বোধে ও বিশ্বাসে ? ন্যুব্জ ? আসলে পরম এখানেও নেই,
তার ঠিকানা রেয়েছে শুধু। তালাবন্ধ করে সবাই চলে যায় সত্তর দশকের মত। আসলে আমরা
জীবনের কথাই বলতে চেয়েছিলাম, গোধূলির আবছায়াতে। তবুও, কেন জানি না, শীতের ভোর বেলা
এরকম মেঘলা আকাশ দেখলে, আজো, আত্মহননের স্পৃহা ছুরির মত ঝলসে ওঠে মনে ।
Comments
Post a Comment