Posts

আবছায়া । পর্ব চার

Image
        কোনো বাড়ীতে, মৃত্যুর শীতল ছায়া যখন পড়ে, কয়েকটা দিন, সেই ছায়াতে আচ্ছন্ন হয়ে থাকে গোটা বাডী; ঝড়ের আগে ও পরেও কিছুক্ষণ যেমন,-- স্তব্ধ, নিঃসাড় হয়ে পড়ে মানুষের মন, ঝড়ের অশনি তান্ডবে, তার বিধ্বংসী রুদ্র নৃত্যে, প্রলয়ের অভিঘাতে, বিলয়ের মুখোমুখি দাঁডিয়ে,  বিহ্বল, হতচকিত এবং গতিহীন হয়ে পড়ে মানুষ,-- তেমনি, মৃত্যুর খুব কাছাকছি এলে, স্তব্ধ, নিঃসাড়, বিহ্বল, গতিহীন হয়ে যায় মানুষ; মৃত্যু পাষাণসম, এর ভর বাড়ীর সব ক’টি মানুষকে স্থবির করে দেয়, স্থবিরতার এই আগ্রাসী বাঁধন, আহ্নিক গতির কাছে একসময় পরাস্ত হয়ে যায়, মৃত্যুর চারদিন পর, খানিকটা লঘু হতে থাকে শোকের আবহ, গৃহবন্দীদশা কাটে, জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে, জীবন উষ্ণ, মানুষ নাই উষ্ণতা খোঁজে, সান্নিধ্য চায় অপর মানুষের, তখন কতো কাজ এসে জুড়ে যায়, মৃত্যুর অশৌচস্পর্শ মুছে ফেলতে হয় বলে, এত কাজের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে,আহার্য ও পানীয়ের রীতিও বদলে যায়, এমনকি একদিন আমিষ খেতে হয়, দেহলতাকে পুনরুজ্জীবিত করে তুলতে, শুধু হতভাগ্য বিধবাকে আমিষ দেওয়া হয় না, দিদা তো মাছ ছাড়া খেতেই পারেন না, পার্বণে, উৎসবে, মাছই দিদার একমাত্র প্রিয় আহার, দীর্ঘ দা...

বিশেষজ্ঞ

             প্রথমে ভেবেছিলাম, শিরোনামটি দেব, ‘অথ বাত ঘটিত বাত-চিৎ’ ; পরে ভেবে দেখলাম, রচনার শিরে স্থিত  নামটিই উপযুক্ত হবে। কারণটা পরে বলছি। আগে এই রোমহর্ষক ঘটনাটি বলে নেই। তবে, সকল রোমহর্ষক ঘটনাই, যার জীবনে ঘটে, তার জন্য হর্ষবর্ধক নাও হতে পারে। অন্ততঃ এই ক্ষেত্রে তো মোটেও নয়। সক্কাল সক্কাল মোবাইলে,  ভবেশ-গিন্নীর সন্ত্রস্ত কণ্ঠের আহ্বানে, শশব্যাস্ত হয়ে ছুটলুম ভবেশ বাবুর গৃহে। গিয়ে যা দেখলাম, তাতে আমার চোখ তো কপাল টপকে, তালুতে উঠে গেল। আমি উৎকন্ঠিত কণ্ঠে ভবেশ বাবুকে জিজ্ঞেস করলাম,’আপনার নিজের শরীরের কোথাও কি জং ধরা লোহায় কেটেছিল ? ভবেশ বাবু ক্ষীণ কণ্ঠে জবাব দিলেন, ‘না’। বাঁশে কেটেছে ? কাঁচে কেটেছে ? পাক্কা গোয়েন্দার মত যত প্রশ্নই করি, সব কিছুরই একই উত্তর তিনি,-- গোয়েন্দা গল্পের পাকা অপরাধীর মত দিচ্ছেন, – ‘না’। তাঁকে প্রথম দর্শনে, আমার কেমন যেন সন্দেহ হচ্ছিল, তিনি হয়তো ধনুষ্টংকার রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। কী রকম যেন অষ্টাবক্র মুনির চেহারা  (অষ্টাবক্র মুনিকে আমি দেখিনি। শুধু বিবরণ পড়েছি।) পরিগ্রহ করতে চলেছেন। ভবেশ...
।। ক্যালাইডোস্কোপ ।।    সৌমিত্র বৈশ্য স্মৃতি # স্মৃতি গুলো এভাবেই আসে। সময়ের ক্রোমোজোম নিয়ে, মিশে থাকে আজকের সময়ের সাথে, মনের চিলেঘরে। বিকেল চারটে বাজতে না বাজতে, চলে এলাম মতিলাল-এ। চা ও মিস্টির দোকান।  শহরের মধ্যবর্তী হওয়ায় সারাদিন প্রচুর খদ্দের ভিড় করে থাকে। এরা আসে পাশের গাঁ-শহর থেকে। হাট-বাজার সেরে , জিরোয় ফ্যানের হাওয়ায়, চা-সিঙ্গারা খায়। চা পঞ্চাশ পয়সা, সিঙ্গারা এক টাকা, রসগোল্লা দু'টাকা। আরো রকমারি মিষ্টিও আছে। সেগুলো সামান্য দামী । তবে পাঁচ-সাত টাকার চেয়ে বেশী নয় দাম। কেউ চা-সিঙ্গারর অর্ডার দিয়ে দিলে, শেখরদা জিজ্ঞেস করে, চাটনি দেব? কেউ বলে, দাও। কেউ আবার বলে, না, না, চাটনি দিও না। রসগোল্লার সিরা দেও। সিরা মানে রস। রসগোল্লার রসে ভিজিয়ে , চামচ দিয়ে কেটে কেটে খায়। কেউ আবার পুরো সিঙ্গারাটাই চামচ দিয়ে কেটে , সিরা ঢেলে ভিজিয়ে নেয়। এরকম খদ্দের পরে আবার এলে,  শেখরদা আলাদা বাটিতে করে সিরা দেয়; যাতে সিঙ্গারাটা কেটে ফেলার পর , পুরো সিরাটা কাটা সিঙ্গারার উপর ঢেলে দিতে পারে। এটা শেখরদার বিশেষ প্রতিভা। শ'য়ে শ'য়ে খরিদ্দার আসে রোজ। তবু , কার কি পছন্দ মনে রাখতে পারে সে। এক ম...