আবছায়া (পর্ব নয়) / সৌমিত্র বৈশ্য
"... এখানে রাত হলে লণ্ঠনের আর লম্ফের আলো, বর্ষায় অদ্ভুত গন্ধ আসে নাকে, ঝিঁঝিঁ ডাকে, ব্যাঙ ডাকে, আরো কী সব পাখি ডাকে, খুব ভয় হতো তখন, একাত্তরের যুদ্ধের সময় বড় পিসির ভাসুরের পরিবার এলো, ঘুমন্ত শীলার লম্বা পাটের মতো রঙের চুলে অবিকল এরকম গন্ধ পেয়েছিল, বাইরে অবিরত ঝিঁঝির ডাক, সবাই গভীর ঘুমে, তারই শুধু ঘুম ভেঙে গেল শীলার পাশে শুয়ে, সেই প্রথম খুব শীত লেগেছিল আর কেঁপে কেঁপে উঠেছিল এক অজানা সন্ত্রাসে, নিঃশ্বাস নিতে পারছিল না, তার মনে হয়েছিল আর তো সে বাঁচবে না, খড়কুটোর মতো তাই শীলাকে আঁকড়ে ধরেছিল আর ঘুমিয়ে পড়েছিল একটা সময়, শীর্ণ কাঠির মতন দেখতে শীলা তার জীর্ণ দুই হাত দিয়ে টেনে ভাসিয়ে তোলে তাকে সেই রাতে, সেই রাতে শীত কেটে গেলে পর এক অদ্ভুত মাদক উষ্ণতায় একে একে ঘুমিয়ে পড়ে তার হাত-পা-মাথা ও মাথার ভিতরের ভোঁতা এক বোধ, সেই রাতে দুটো অস্ফুট বোতাম যেন তার বুকে লেগে থাকে পরম আশ্রয়ের মতো, বোতামের অন্তরে মখমলি আবেশ সাপের বিষের মতো নিস্তেজ করে ফেলে তাকে আর হাতের ভিতরে হাত পায়ের ভিতরে পা মাথার ভিতরে মাথা পাঁজরে পাঁজর নিয়ে নির্বোধ ঘুমে ডুবে গেলে বহুদিন পর একদিন শীলা উঠে আসে চৈত্রের ঘটি ডোৰা পুকুরের মাঝখান থেকে শীলা উঠে আসে একদিন সর্বাঙ্গে তরল কাদা চুঁইয়ে পড়ছে জল তার থুতনি থেকে মাথার চুল থেকে কানের ছোট্ট লতি থেকে তার সর্বাঙ্গ থেকে যেন কামনার বিন্দু বিন্দু স্বেদ আর ততদিনে হারিয়ে ফেলেছে শীলা তার অস্ফুট বোতাম আর জেগে উঠেছে মৃন্ময় মূর্তির মতো কুমারের হাতে ছানা তালতাল মাটি লেপা এক লাবণ্য প্রতিমা আর বড়খলা গ্রামে তার বিবাহ হয়ে যায়, স্বাধীন বাংলাদেশে জমিজমা বেচে দিয়ে তার বাবা, মেজদার জ্যাঠা, বড় পিসির ভাসুর, প্রচুর ধানের জমি কিনে বড়খলায় বসতি করেন..."
(বাকি অংশ লিংকে)
Comments
Post a Comment