কুট্টুস
পূর্ণা সবে ক্লাস সিক্স। ছোটবেলা থেকেই কমিকস পড়ার পোকা। পূর্ণার মা পুষ্পিতা একটি উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের ইংরেজির বিষয় শিক্ষিকা। তবু যুগের হাওয়ায় গা না ভাসিয়ে, মেয়েকে বাংলা মাধ্যম স্কুলে ভর্তি করে দিলেন। আত্মীয় স্বজনরা তো অবাক। আজকাল কেউ বাংলা স্কুলে পড়ায় ? ইংরেজিটা না শিখলে এ যুগে ভালো চাকরী পাবে না। তাছাড়া, সরকারী স্কুলে তো লেখাপড়ার পাট নেই বললেই চলে। কোনো ডিসিপ্লিনও নেই। কি শিখবে তোমার মেয়ে? পুস্পিতার বর সুনির্মল অবশ্য বরাবরই ওর বুদ্ধি বিবেচনার উপর ভরসা রাখে।তাই পুষ্পিতা যখন মেয়েকে বাংলা স্কুলে ভর্তি করতে চাইল, তখন আত্মীয়রা যে যাই বলুক না কেন, কোনো বাধা দেয়নি। পাঠশালা শেষ করে পূর্ণা ভর্তি হয়ে গেল, সরকারী গার্লস স্কুলে। কারণ, পুষ্পিতার যুক্তিটা ছিল, আমি নিজে একটা বাংলা হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষিকা হয়ে নিজের মেয়েকে ইংরেজি স্কুলে পড়ালে, সেটা ভণ্ডামি হয়ে যাবে। আর স্কুলের পড়ায় যদি কোনো খামতি থাকে, সেটা আমি বাড়ীতে পুষিয়ে নেব। আর বাড়ীতে সদস্য বলতে, সুনির্মলের বিধবা মা ছাড়া আর কেউ নেই। উনি সংসারের কোনো সাতে-পাঁচে থাকেন না। ঠাকুর পুজো, রান্নাঘর আর টি ভি সিরিয়েল নিয়েই থাকেন। তবে দুপুরে ভাত-টাত খেয়ে একখানা উপন্যাস না পড়লে, তাঁর নাকি হজম হয় না। পুরনো ডেক চেয়ারে বসে, চশমা এঁটে , নিবিষ্ট মনে পড়তে থাকেন।দুপুরের খাওয়া সেরে ফেলেন দুটোর মধ্যে। এরপর সন্ধ্যে পাঁচটা পর্যন্ত তাঁর পড়ার সময়। এ সময় কেউ তাঁকে বিরক্ত করে না। তবে হাল আমলের লেখা তাঁর খুব একটা ভালো লাগে না। তবে একবারেই যে পড়েন না, তাও নয়। এ ব্যাপারে তিনি পুষ্পিতার কাছে জেনে নেন, কোন উপন্যাসটা ভালো হয়েছে। পুস্পিতাও শাশুড়ির পাঠরুচি জানে। এই তো সেদিন পুষ্পিতা তাঁকে ‘প্রথম আলো’ বইটা এনে দিল। শিলচরে তো বাংলা বই তেমন একটা পাওয়া যায় না। যে শহরে বাংলা ভাষার জন্য এগারো জন শহীদ হল, সেই শহরেই পছন্দ মত বাংলা বই পাওয়া যায় না। এটা পুষ্পিতার শাশুড়ি , সুরবালাকে খুব পীড়া দেয়।
সুরবালা আজও , এই সত্তর বছর বয়সেও, ব্রাহ্ম মুহূর্তে ঘুম থেকে ওঠেন। শীত-গ্রীষ্মে তাঁর একই রুটিন। এই অভ্যাসটা করিয়েছিলেন তাঁর বাবা। বাবা ছিলেন নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ পণ্ডিত। তর্কতীর্থ উপাধি ছিল তাঁর। সুরবালাকে বেদ উপনিষদ পড়িয়েছেন। সংস্কৃত শিখিয়েছেন। তাঁর কবিরাজি জ্ঞান উজাড় করে দিয়েছেন। মানুষ হিসেবে অত্যন্ত উদার মনের অধিকারী ছিলেন। বিয়ের পর শ্বশুর বাড়ী এসেও এরকমই এক পরিবেশ পেয়েছিলেন। তাঁর শাস্ত্র জ্ঞান দেখে শ্বশুর মশাই অভিভুত। বাড়ীতে নারায়ণ প্রতিষ্ঠিত। পুজোর দায়িত্ব অচিরেই এসে পড়ল সুরবালার উপর। পুজো-আচ্চা করতে তাঁর ভালোই লাগে। আজও তাই করেন। আগে লাল পেড়ে গরদের শাড়ি পরতেন। এখন লাল মুছে গেছে। সাদা চিকন পাড়ের শাড়িতে তাঁকে খুবই ব্যক্তিত্বময়ী দেখায়। বয়সের নিয়মে চোখে উঠেছে চশমা। ধীরেসুস্থে এক দেড় ঘণ্টা ধরে পুজো করেন। তারপর এক কাপ চিনি ছাড়া লাল চা আর চিড়ে ভাজা দিয়ে প্রাতঃরাশ সারেন। বিস্কুট তিনি খান না। ওতে নাকি ডিম থাকে। শুধু বিস্কুট নয়, বাইরে থেকে আনা কোনো খাবারই তিনি মুখে তোলেন না। একাদশীতে উপবাসটা এখন আর করতে পারেন না। অম্বল হয় খুব। তবে শুধু ফল খেয়ে থাকেন। এহেন সুরবালা যে অতি আদরের নাতনীর সেই আবদারটা কিছুতেই মেনে নিতে পারবেন না, সে তো খুবই স্বাভাবিক।
৷৷২৷৷
পূর্ণা ছোটবেলা থেকেই দেখছে মা বই পড়ে। ঠাম্মা বই পড়ে। বাবা ব্যাঙ্ক থেকে ফিরে এক গাদা মোটা মোটা ইংরেজি পত্রিকা নিয়ে বসে আর ঘনঘন চা খায়। মা একটা ফ্লাক্সে করে বাবার জন্য চা বানিয়ে রেখে দেয়। কিন্তু সে তো ওদের মত এসব বই পড়তে পারবে না। তার ভালো লাগে ছবিওয়ালা বই। পড়তে না পারুক, ছবি দেখে দেখে সে অনেকটা কল্পনা করে নিতে পারে গল্পটা কি। আর তাও যদি না হয়, সে ছবি দেখে নিজের মনের মত একটা গল্প বানিয়ে নেয়। এটা বাচ্চা পাখিটার মা। আর মা-পাখি বাচ্চাটার জন্য খাবার এনেছে। ঠিক মা যেরকম তার জন্য খাবার বানিয়ে এনে তাকে খাইয়ে দেয়। এক ক্লাস এক ক্লাস করে পূর্ণা বাড়ছে। আর বাড়ছে তার অক্ষর জ্ঞান। তখন সে ঠেকে ঠেকে পড়ে নিতে পারে। ক্লাস ফোরে যখন উঠল, মা তাকে এনে দিল একটা ভারি সুন্দর আর ইয়া বড় ছবিওয়ালা বই। কি সুন্দর কাগজ। নতুন বই পেলে সে বইটা খুলে গন্ধ শোঁকে প্রথম। এটা সে মায়ের কাছ থেকে শিখেছে। হাঁদা ভোদা, বাঁটুল দি গ্রেট থেকে বইটা অন্যরকম। বইটার নাম তিব্বতে টিনটিন। কি মজার বই। হ্যাডক, প্রোফেসর ক্যালকুলাস , দুই গোয়েন্দা থমসন আর থম্পসন। সবচেয়ে মজার হল সাদা তুলতুলে কুট্টুস। ইস, যদি তার কুট্টুসের মত একটা কুকুর থাকত! একদিন বাবাকে বলেও ফেলল, কুট্টুসের মত একটা কুকুর এনে দিতে। মাকেও বলল। একেবারে নাছোড়বান্দা হয়ে। এর মধ্যে সে জেনে ফেলেছে, তার ক্লাসের টুপসির বাড়িতে কুকুর আছে। শ্রেয়াদের বাড়িতেও আছে। ক্লাসে গিয়ে সে জনে জনে জিজ্ঞেস করত কার কার কুকুর আছে।
বাধ্য হয়ে , তার বাবা একদিন রাজীও হয়ে গেল। কিন্তু কথাটা ঠাম্মার কানে যেতে সময় লাগল না। কারণ, সে যখন বাবাকে কুকুর এনে দেবার কথা বলছিল, তখন ঠাম্মা পাশের সোফায় বসে টিভি দেখছিল।আর যেই বাবা বলল, ঠিক আছে খোঁজ নিয়ে দেখব কোথায় পাওয়া যায় , অমনি ঠাম্মা বলে উঠল, এ-বাড়িতে কুকুর ঢুকবে না। পূর্ণা যেন নিজের কানকে বিশ্বাসই করতে পারছে না। এ কি শুনছে সে! যে ঠাম্মা তার কোনো আবদার, সে যত কঠিনই হোক, রাখতে বিন্দুমাত্র কসুর করে না, সেই ঠাম্মা কিনা তার জন্য একটা কুকুর আনতে বাধা দিচ্ছে। পূর্ণা এও জানে, ঠাম্মা একবার না বলা মানে না-ই । তার কোনো নড়চড় হবেই না। খুব রাগ হল তার। অভিমান হল প্রচণ্ড। সারারাত গুমরে গুমরে কাঁদল। তবে সেটা পাশে শুয়ে মাও টের পায়নি। পরদিন সকালেও তার মনটা ভারী । স্কুলেও সে চুপচাপ ছিল। টিফিনের সময় টুপসি জিজ্ঞেস করল, কি হয়েছে রে তোর? এই প্রথম তার খুব কান্না পেল। টুপসি সব বলল। শুনে টুপসি বলল, তুই আমাদের বাড়ী আসিস। বাঘাকে তোর খুব ভালো লাগবে। আমাদের বাঘা খুব শান্ত। টুপসির মুখের ওই ‘আমাদের বাঘা’ কথাটা পূর্ণার খুব মনে ধরল। সেও যদি বলতে পারত , ‘আমাদের কুট্টুস’ ! সে তো নামও ঠিক করে রেখেছিল, কুকুরের নাম রাখবে কুট্টুস। মা যদিও বলেছিল, ইংরেজিতে ওর নাম স্নোয়ি। তবু কুট্টুস নামটাই তার পছন্দ। কিন্তু সে তো আর হবার নয়। ঠাম্মা যখন না করেছে, তখন আর কুকুর আনা তার হল না।
কিছুদিনের মধ্যেই স্কুলে গ্রীষ্মের ছুটি হয়ে গেল। দুপুরে শুয়ে শুয়ে সে দু’চোখ ভরে টিনটিনের কুট্টুসকে দেখত। একদিন কি মনে করে, ড্রয়িং খাতা নিয়ে সে আঁকতে শুরু করল কুট্টুসের ছবি। ছবি আঁকায় তার একটা সহজাত দক্ষতা আছে। এটা কিন্তু বাড়ীর কেউ জানে না। কারণ, তার স্কুলের ড্রয়িং খাতা মা কোনোদিন দেখেনি। রক্ষে। না হলে তাকেও হয়তো ছবি আঁকা শেখার স্কুলে ভর্তি করে দিত। সে পেন্সিল দিয়েই আঁকে। ভুল হলে মোছা যায়। ওদের ক্লাসের যারা ছবি আঁকার ক্লাসে যায়, তাদের কেউ কেউ রঙ দিয়ে ছবি আঁকতে পারে। এখন থেকে সে রাস্তাঘাটে যেখানেই কুকুর দেখত, খুব মন দিয়ে লক্ষ করত, তাদের চোখমুখ, থাবা, ল্যাজের ভঙ্গিমা। হাঁটলে কেমন দেখায়। যেন মনের ক্যামেরা দিয়ে তুলে নিত ছবি। আর বাড়ী ফিরেই বসে যেত আঁকতে। দেখতে দেখতে পূর্ণার ড্রয়িং খাতা ভরে গেল কত রকমের কুকুরের ছবিতে। সেদিন দুপুরে ড্রয়িং খাতার পুরো পাতা জুড়ে পূর্ণা মন থেকে একটা কুকুরের ছবি আঁকল। তার নিজের চোখকে নিজেই বিশ্বাস করতে পারছে না। এত জীবন্ত লাগছে কুকুরটাকে। বালিশে শুয়ে , খাতাটা বুকের উপর নিয়ে, মুগ্ধ চোখে দেখছে কুকুরের ছবিটা। আর কি আশ্চর্য ! ছবির কুকুরটা জীবন্ত হয়ে তড়াক করে খাতা থেকে বেরিয়ে, বিছানায় , তার পাশে শুয়ে পড়ল। পূর্ণা তাকে আদর করতে লাগল। ধবধবে সাদা রঙের কুকুর। এই তো কুট্টুস। পূর্ণার মনে হল, কুট্টুসকে একটা বিস্কুট খাওয়াতে হবে। ও নিশ্চয় সকাল থেকে কিছুই খায় নি। বিস্কুট এনে দেখে কুট্টুস নেই। কোথায় গেল। এই রে, যদি ঠাম্মার চোখে পড়ে তাহলে আর রক্ষে নেই। একটা একটা ঘর খুঁজে, একতলা, দোতলায়, ছাদে কোথাও পেল না। তবে কি পালিয়ে গেল। মন খারাপ করে পূর্ণা বসে রইল বাড়ীর পেছনের বাগানের আম গাছের তলায়।
৷৷৩৷৷
এদিকে বাড়িতে হুলুস্থুল পড়ে গেছে। কোত্থেকে একটা সাদা তুলতুলে কুকুর ঘরে ঢুকে পড়েছে। সুরবালা তো চেঁচামিচি করে সারা বাড়ি মাথায় তুলেছেন। বাড়িতে সুনির্মলও নেই। পুষ্পিতা একা। এটা নিশ্চয় পাড়ার কারো কুকুর। বাধ্য হয়ে পুষ্পিতা পাশের বাড়ির মিন্টুকে ডেকে আনল। সেও বলতে পারল না , এটা কাদের বাড়ির কুকুর। আর এদিকে কুকুরটা তুলতুলে পায়ে এ-ঘর সে-ঘর ঘুরে বেড়াচ্ছে। যেন নতুন অতিথি। আর সুরবালা সেই কুকুরের পিছুপিছু ছুটে বেড়াচ্ছেন। আর হায় হায় করে যাচ্ছেন, হায় , হায়, গেল গেল। সব গেল। ঠাকুর ঘর আর রান্না ঘরের দরজা নিজেই বন্ধ করে দিয়েছেন। মিন্টু পাড়ার অনেক লোককে ডেকে এনেছে। কেউই বলতে পারছে না, এটা এ- পাড়ার কারোর কুকুর কিনা। এমনকি পাশের প্রোফেসর পাড়ার খবরও এসে গেল। না, ও পাড়ার কারো কুকুর হারায় নি। একসময় সবাই চলে গেল। যাবার সময় বলে গেল, আপনারাই বরং রেখে দিন ওটাকে। ঘরময় ছুটোছুটি করে ক্লান্ত হয়ে বসে পড়লেন সুরবালা। এদিকে দুপুরের খাওয়ার সময়ও পেরিয়ে গেছে। এত ছোট কুকুর , মেরেও তাড়াতে মন চাইছে না সুরবালার। দেওয়ালে যেখানে সুরবালার স্বামীর ছবি টাঙানো, ঠিক তার নিচেই কুকুরটা বসে রইল। খেতে যাবার আগে সুরবালার মনে হল, হাজার হোক নারায়ণের জীব। তিনি নিত্য নারায়ণের সেবা করেন। পুষ্পিতাকে বললেন, দইয়ের পাতিলে করে ওকে একটু দুধ দিতে। দেওয়া মাত্র চুকচুক করে দুধটুকু খেয়ে, শুয়ে পড়ল। সুরবালা খেয়ে এসে দেখেন, কুকুরটা অঘোরে ঘুমোচ্ছে। একটু কি মায়া হচ্ছে তাঁর কুকুরটার জন্য। নাহ, মনকে শক্ত করতে হবে। সুনির্মল ফিরলে বস্তায় পুরে ওটাকে দূরে ফেলে আসতে বলবেন। এদিকে পূর্ণাকে খুঁজতে গিয়ে, পুষ্পিতা দেখে, বুকের উপর ড্রয়িং খাতা নিয়ে সে দিব্যি ঘুমোচ্ছে। এত হুলুস্থুলেও তার ঘুম ভাঙেনি। ঘুম ভাঙার পর চোখ কচলে , ড্রয়িং খাতার দিকে তাকিয়ে সে অবাক। একি ! এত সুন্দর একটা কুকুর এঁকেছিল, সেটা নেই। যেন কেউ রাবার দিয়ে মুছে দিয়েছে। । তখনো সে জানে না, তাদের বাড়িতে কুট্টুসের মত দেখতে একটা কুকুর কোত্থেকে এসে ঢুকে পড়েছে।
কুকুরটাকে দেখে তার আনন্দ দেখে কে। এদিকে সুনির্মল ফিরতে ফিরতে বেশ রাত হয়ে গেল। এত রাতে কুকুরটাকে বিদেয় করতে সুরবালার মনে খচখচ করতে লাগল। রাতে ওর জন্য পাতিলে করে দুধ ভাত আর শোবার জন্য একটা বস্তা দিতে বললেন পুষ্পিতাকে। ভোরে উঠে দেখলেন, কুকুরটা ঘুমোচ্ছে। ভোরের আলোয়, তার সাদা রঙের দিকে তাকিয়ে রইলেন। পুজো আচ্চা সেরে যখন বেরোলেন, ততক্ষণে কুকুরটা জেগে উঠেছে। কুকুরটা তাঁর পায়ের থেকে একটু দূরে বসে রইল। বাটি থেকে এক মুঠো ভাজা চিড়ে দিতেই, সে কূটকুট করে খেতে লাগল। বেশ মজাই লাগছে। বিস্কুটের কৌটো থেকে ভেঙে দিলেন একটা ক্রিমক্র্যাকার। সেটা পায়ে চেপে মুখে দেবার চেষ্টা করছে। আর বিস্কুটটা সরে যাচ্ছে। এটাও সুরবালার কাছে বেশ মজার দৃশ্য। পূর্ণাও বিস্ময়ের চোখে কুকুর নয়, ঠাম্মাকে দেখছে। ছেলেকে বললেন, ওকে চান করিয়ে নিয়ে আয়। আমি গঙ্গা জল ছিটিয়ে দেব। কার না কার বাড়ির কুকুর। পূর্ণা সাহস করে জিজ্ঞেস করে ফেলল, ঠাম্মা, ও কি এখানে থাকবে? সুরবালা বললেন, তাহলে আর যাবে কোথায়। এতটুকু প্রাণ। নারায়ণের জীব। শেষে গাড়ী চাপা পড়ে মরুক আর কি। পাপ তো আমার হবে তখন। পূর্ণা আনন্দে ঠাম্মিকে জড়িয়ে ধরে। আর অনাসৃষ্টি করে কুকুরটাও লাফ মেরে সুরবালার কোলে চড়ে বসল। পুষ্পিতা আঁতকে ওঠে। পূর্ণাও ভয় পেয়ে গেছে।
সুরবালা বেশ রেগেই বললেন, সুনির্মলকে যদি একটা কথা বলে শোনানো যায়। সবাইকে অবাক করে দিয়ে, কুকুরটাকে কোলে নিয়ে বাথরুমে গিয়ে শাওয়ার ছেড়ে সবান মাখিয়ে চান করাতে লাগলেন। তারপর নিজেও চান সেরে এসে, গঙ্গাজল ছিটিয়ে ওটাকে শুদ্ধ করে দিলেন। সুনির্মল বলল, যা বেটা , তুই ব্যাপটাইজড হয়ে গেলি। এবার তাঁর মনে হল, কুকুরের একটা নাম রাখা দরকার। কথাটা শোনামাত্র, পূর্ণা বলল, ঠাম্মা, ওর নাম রাখব কুট্টুস। শুনে একটু ভেবে বললেন, আমি ভাবছিলাম, ধবল রাখব। পুষ্পিতা বলল, মা, ধবল তো গরুর নাম হয়। সুরবালা আর আপত্তি করলেন না। শুধু বললেন, তোমরা একালের মানুষ। যা ভালো বোঝ, রাখ। পানের ডিবা নিয়ে, বসে প্রথম ডাকটা উনিই ডাকলেন, কুট্টুস, বিস্কুট খাবি?
Comments
Post a Comment