Posts

সান্ধ্য প্রলাপ, দিনলিপি

সারাটা বিকেল জুড়ে মেঘলা আকাশ। সারাটা সন্ধে ভেসে গেল, হু হু করা বাতাসের ডানার ঝাপটায়। এও কি তবে আসন্ন চৈত্রের ইঙ্গিত? পরিত্রাণহীন ভাবে একবুক হলুদ পাতার ভিতর ক্রমাগত ডুবে যাওয়া। মাঘের বিকেল জুড়ে বিশ্রী শীতার্ত বাতাস, বৃষ্টি, হিম, সুনসান পথ। এই দেশে লোকশ্রুতি, মাঘে মেঘে দেখা হলে মাটির গর্ভ সঞ্চার হয়। এয়োতিরা উলুধ্বনি করে। উদ্ভিদ-জীবন পায় ফের ঐ নবীন তৃণরূপ। এই প্রকৃতি বড় বেশী শস্য-উদার। তথাপি মানব-জীবনই কেবল পোশাক বদলের রীতি বহে যায়, -- ভাবলে মন-খারাপ হয়ে যায়। বিশ্বাসহীনতার ছায়ায় ভাসতে ভাসতে,নিজের সাথেই দেখা নেই কতকাল।   তবু, শেষবার চিঠি লিখি,--ফিরে এসো; সাথে এনো গ্রীষ্মের উত্তাপ। স্থিরচিত্রে সঠিক থাকে কি কিছু অবনত ভারে? বোধে ও বিশ্বাসে ? ন্যুব্জ ? আসলে পরম এখানেও নেই, তার ঠিকানা রেয়েছে শুধু। তালাবন্ধ করে সবাই চলে যায় সত্তর দশকের মত। আসলে আমরা জীবনের কথাই বলতে চেয়েছিলাম, গোধূলির আবছায়াতে। তবুও, কেন জানি না, শীতের ভোর বেলা এরকম মেঘলা আকাশ দেখলে, আজো, আত্মহননের স্পৃহা ছুরির মত ঝলসে ওঠে মনে ।

সান্ধ্য প্রলাপ , দিনলিপি

আমার ভাষার ভিতরে আজো শব-বাহকের শীতল মুখ ভেসে আসে ; রক্তের বিপন্ন কাতরতা জেগে থাকে মর্গের মতন স্তব্ধ , রিক্ত , মলিন বিষাদে। ক্যালেন্ডার,-- সময়ের দিকচিহ্ন,-- ইতিহাসের স্থবিরতা নিয়ে পড়ে রয় ধূসর দেওয়ালে। প্রতিটি কথাই আজ টুপটাপ ঝরে যায় বোবাদের আপ্রাণ ইসারা হয়ে তোমার উঠোনে। কেন এত ব্যর্থতার গ্লানি লেগে থাকে গ্রীষ্ম-দুপুরে , প্রতিটি রিকশাচালকের মুখে, বসন্তের ক্ষয়াটে দাগের মত। সু-উচ্চ মিনারের চূড়া ঘিরে থাকে উড়ন্ত পারাবত দল আর মেঘের পালক। তবু ভাষা, পুরাতন ব্যবহৃত খবরের কাগজের মত উড়ে যায়। ডাস্টবিন চেটে খায় একদল ঘেয়ো কুকুর আর ক্ষুধার্ত পাগল। ভাষার ভিতরে মড়ক, রক্ত, অপমৃত্যু, দুঃস্বপ্নের নিওন বিজ্ঞাপন। ভাষা তো আসলে আজো স্মৃতির বিন্যাস। রাত্রি গভীর হলে , কে ছুটে যায় সেই অন্ধ অতীতের দিকে? ঘুমের ভিতরে তার পদশব্দ শোনা যায় রোজ। ১৯/০৫/২০০৭

সান্ধ্য প্রলাপ , দিনলিপি

আকাশের ঐ   নীল দেবতা আজ অকস্মাৎ নদীর শিয়রে নেমে এসে , রচনা করেছেন নিসর্গের যাবতীয় পার্থিব খেলা । অপ্রতিম বৃক্ষরাজি , বালুচর , ডিঙি নৌকা , রুপালী মীনের লাজুক উত্থান ও জলের প্রাকৃত বিস্তার,-- সবকিছু এত মৃদু ও নতুন ; অথচ কী আশ্চর্য দেখ , চারদিক জুড়ে শুধু রঙ্গিণীদের আরক্তিম নাচ, আকাশের তলে । তাদের অহংকারের রোদ গায়ে এসে লাগে । বহুকাল মৃত্যুহীন তাদের হৃদয়। তথাপি   প্রাচীন শীত নেমে এলে মনে হয় , এ-পৃথিবী প্রবলভাবে দ্রাক্ষাসিঞ্চিত । একদিন সব ভুল মুছে গেলে , জেগে উঠব আমরা এক বিলীন ঘুমের দেশে । ফিরে আসবে পুরাতন বন্ধুরা সব একেএকে । আজ তাই , গুটিয়ে নিয়েছি ডানা , অহংকারী রোদের ভিতর । সব প্রতীক্ষার শেষে , রাতের নিসর্গ জুড়ে নক্ষত্রের মালা । রাতের দেবতা এসে সাজিয়ে দিয়েছেন আমাদের সুখ-দুঃখের ডালি ।
এ্যানিমেল প্ল্যানেট // সৌমিত্র বৈশ্য ভিতরে অনেক জন্তু , -- তারা সব জেগে ওঠে গভীর নিশীথে শুনি তাদের জান্তব চিৎকার , দীর্ণ হাহাকার হায়েনার নীল চোখ জ্বলে থাকে মনের দেয়ালে দলবদ্ধ হিংস্র চিতারা শুধু রক্তের লোনা স্বাদ পেতে চায় শিথিল স্নায়ুর ভিতর সবুজ লাউ-ডগা সাপ,-- সে উদ্যত ফণা মেলে আছে , আর নড়ে ওঠে আগ্রাসী ময়াল যুগান্ত-বাহিত এই আদিমতা,-- খাদ্য ও খাদক সার্থক মানব জনম আর কি পাবনা কখনো
রূপান্তর // সৌমিত্র বৈশ্য যদি তার দেখা নাই পাই এ-জীবন যাবে কি কেটে তোমার সবুজ ছায়ায় – এসেছি ফলের লোভে , গহন বাগানে ফল , বীজ , গাছের গল্প শুনেছি মলয় বাতাসে পাখিরাও শুনেছে কিছু , তাদের নিজস্ব ভাষায় পাখিরা উড়ানধর্মী , তবু গাছ অন্তিম আশ্রয় আসন্ন বর্ষায় আমি শ্যাওলা হয়ে তোমার ডালে                                             মিশে যাব সে আসুক , দেখে যাক , আমার এই শ্যাওলায়                                রূপান্তর , ঘন বর্ষায় ।

আমার কবিতা

মর্মকথা // সৌমিত্র বৈশ্য # যতই আঘাত পায় , তত জ্বলে ওঠে জানে , সকল স্বপ্নের শেষে , তবু আশাহত প্রাণ ফের যায় হাটে ও বাজারে , যায় লোকসমাগমে মিশে যায় শ্রাবণ-ধারায় --- # এ-শরীর দাহ্যবস্তু , শুধু জীবনই বোঝে দহনের শেষ মর্মকথা
Image
Image