Posts

Showing posts from 2015

মুক্তি

কবিতার অবাস্তব জগতে, সমস্ত রাত্রি জেগে, একা একা ঘুরি,আর দেখি, সুখী মানুষের মুখ, ঘরে ঘরে মূর্ত হয়ে আছে নীল পরাবাস্তবতা— সকলেই উত্তরণশীল,স্বপ্নালু জীবনে পরিব্যাপ্ত, মৃত্যুহীন শুধু, তবে কেন শব্দের অরণ্যে ঘুরি আমি, কীসের অমোঘ টানে মনে হয় এই প্রেতলক,প্রেতযোনি-সম্ভূত আমি, আর নিস্তার নেই অরণ্য-বাতাসে কেঁপে উঠি, নিরর্থক মনে হয় এই দীর্ঘ পরিক্রমা শূন্য ভবন খুঁজে না পাই যদি, শুধু ভেসে যাব এই বড় অবেলায় বন্ধুর ছদ্মবেশে গোপন ঠাট্টাও কেউ থুতুর মত ছুঁড়ে দিয়ে গেছে তবু কার প্রতিক্ষায় বসে থাকি, একদিন যে এসে গোপন এই                                                    মন পড়ে যাবে আয়নার সামনে দাঁড়াই, নিজেকে সান্ত্বনা দেই,-- এই উন্মাদ-আগার থেকে একদিন তোমারও মুক্তি হবে,            ...

হাসির গমক

উত্তর-সম্পাদকীয় জুড়ে মানুষের আজ গভীর সংকট; জল, বাঁধ, আর্সেনিক, পরমাণু বিস্ফোরণ নিয়ে সভ্যতার সংকট বিষয়ে এত সব মননশীল হৃদয়-বিদারণ প্রান্তবাসীদের নিয়ে দীর্ঘ প্রতিবেদন— আমরা যে ভালো নেই, সামনেই সমূহ বিপদ; # অথচ মানুষ প্রয়োজন-বদ্ধ জীব,-- এই কথা মর্মে বুঝেছে যে, সে একটি পাগল, গত শীতে, দেখেছি তাকে কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকত রোজ রাতের ফুটপাতে । আকাশে-বাতাসে ভাসে পাগলের হাসির গমক--

ছাতা

পান্থজন, রৌদ্রে , ছাতা হাতে, তোমার পিছনে ঘুরি, নিরন্তর ছায়াময় এক জীবনের অনন্ত সন্ধানে রত ; কিন্তু সকল পথ, কেবলই ইসারাময় – গমনের অবিচ্ছিন্ন ইঙ্গিতের মত মনে হয় আর কত ? বৃক্ষতলে   বিষণ্ণ এবং বিশ্বাসী মানুষের দল সকলের হাতে-পায়ে ক্ষতচিহ্ন ও মাথায় পরা কাঁটার মুকুট # আমি কি তোমার ছায়া ? পিছে পিছে চলি ? আকাশে বিমূঢ় মেঘ । দমকা বাতাসে আজ উড়ে গেল ছাতা

সান্ধ্য প্রলাপ, দিনলিপি

শুধু এই কবিতার ভিতরে যদি আজ তিন ফর্মার গহন আঁধার, বাকী সব কবিতায় তবে ঝলমলে আলোকিত রাত আর জীবনের সুনীল নির্ঘোষ, জয়গান। সব আঁধার তো কালও নয়, আলোয় নিষিক্ত ভ্রূণ। শুধু কিছু অন্ধকার কালো,-- আরশোলার মতন উড়ে যায় ছাপাখানার ঘুপচির ভিতর। সেখানে অক্ষরমালা জুড়ে বেদনার নীলচে আঘাত, কালো অপমান এবং বিচ্ছেদের রাত। আমি সব কিছু ফর্মা হিসেব করে, জড়িয়ে দিলাম আজ এই গহন সংকলনে। সমস্ত দিনের ছায়া, টো টো করা পথ, মানুষের অবিকল বঞ্চিত মুখ, ভিক্ষাপাত্র, জন্মান্ধের ক্লান্ত সঙ্গীত,-- সব কিছু জড়ো হয় দিনের মলাটে। কে এসে চুপচাপ বলে গেল,-- রাত কত হল ? সে কি মৃত ঠাকুমার মুখ ? সেবার খুব বন্যা হয়েছিল, আর একদিন তিন ভাগ জলের অতলে মাথাচাড়া দিয়ে উঠল ডাঙার পাথুরে ইতিহাস। আজ সব কিছু শুধু তিন ফর্মার আঁধারে রচিত প্রচ্ছদলিপি।

সান্ধ্য প্রলাপ,দিনলিপি

সব কোলাহল থেমে গেলে, ভেসে আসে ঈশ্বরের অন্তিম হাহাকার। তবুও যে আকাশ নীল, ঢেকে রাখে রাত্রির অমা। অন্ধকার গোপনতা জুড়ে থাকে মিলনের অনন্ত ইসারা। ঝরে জল, রাত্রি-জল পত্র ও পল্লবে। চারপাশে এত ফিসফাস, আর হাসির বিলোল শিহরণ। এর মাঝে কত আড়াল, কতদিন শুধু তুমি-আমি, শ্রাবণের চিরন্তন বিষাদ। ক্লান্তির ভিতরে ঘুম, বহে যায় এক-বুক নিঃশব্দ নদী ; আজো যার প্রতিটি ঢেউ ঈশ্বরের অসীম হাহাকার। সমস্ত জীবনভর, এই হাহাকার, গোপনে তর্জমা করে যায় কেউ।