ক্যালাইডোস্কোপ ॥ পর্ব ৩

হাম দো , হামারা দো

এদিকে শীতের আমেজ, আর অন্যদিকে যুদ্ধের দামামা। দিপুদের কলোনিতে যে দু’টি কোয়ার্টারে রেডিও আছে, তার মধ্যে একটি দিপুদের। রাতে আকাশবাণী কলকাতা থেকে ভেসে আসে সংবাদ পরিক্রমা । আর তারপর পড়া হয় খবর। সবই উৎকর্ণ হয়ে শোনে সেই খবর। যুদ্ধের খবর। দিল্লী থেকেও বাংলা খবর পড়া হত। দিপুর খুব ভালো লাগে নীলিমা সান্যাল আর ইভা নাগের খবর পড়া। তাতেও থাকে যুদ্ধের খবর। কত লোক মারা যাচ্ছে পাকিস্তানি সেনার হাতে। ওদিকে রাশিয়া আর আমেরিকার মধ্যে লেগে গেল দ্বন্দ্ব। রাশিয়া ভারতের পক্ষে, আমেরিকা পাকিস্তানের পক্ষে। আমেরিকা শাসাচ্ছে ভারতকে। রাশিয়া অভয় দিচ্ছে। আমেরিকা ভারতের দিকে পাঠিয়ে দিল সপ্তম নৌবহর। এই সপ্তম নৌবহর-এর কথা স্কুলে ওদের মুখে মখে ঘুরছে। অনেক নাম জানা হচ্ছে। ইয়াহিয়া খান, নিক্সন, ব্রেজনেভ । খবর এল রাশিয়াও পাঠিয়ে দিয়েছে তাদের নৌবহর। বঙ্গোপসাগর তপ্ত হয়ে উঠেছে। দিপুদের ঘরে পত্রিকা আসতে আসতে সন্ধ্যে। দিপুর বাবা যুগান্তর পড়েন। ওটা নাকি দেশের স্বাধীনতার সময় বিপ্লবীরা শুরু করেন। বাবার মতে আনন্দবাজার বুর্জোয়া পত্রিকা। স্টেশনে হুলারের স্টলে দিপু আনন্দবাজার দেখেছে। স্টলের সামনে লেখা এ. এইচ. হুইলার এন্ড কো। শিলচর স্টেশনেও হুইলারের স্টল আছে। হুইলার নাম কেন, তা জানে না। ট্রেনে করে বান্ডিল বান্ডিল পত্রিকা আসত শিলচর থেকে। তারপর সেখান থেকে হকাররা পত্রিকা নিয়ে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিত। হুইলারে কত বই, ম্যাগাজিন । তবে বাংলা বই নেই। বাংলা ম্যাগাজিন আছে। আর কিছু ম্যাগাজিন থাকে, সেগুলোতে পিন মারা। কেউ খুলে পড়তে পারে না। একদিন খবর এল যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে। ভারত জিতে গেছে। পরদিন সবাই পত্রিকায় ছবি দেখল। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান নিয়াজি একটা কাগজে সই করছেন। পাশে বসা  এক শিখ ভদ্রলোক। নাম জগজিৎ সিং অরোরা। ইনি ভারতের হয়ে যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর কিছুদিন পরই স্বাধীন বাংলাদেশ থেকে মিলিটারি স্পেশাল ট্রেন আসা শুরু হল। আর সেই ট্রেন দেখার জন্য দিপুরা ভিড় করে স্টেশনে। কারণ, ওতে যারা থাকে, তারা যুদ্ধ বন্দী, পাকিস্তানী সেনা। এর কিছুদিন পর এল আসল মজা। বাবাকে যেতে হল বানলাদেশ। পাকিস্তান নাকি ও দেশের রেল লাইন উপড়ে, রেল ব্রিজ ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। নতুন করে রেল লাইন পাতা শুরু হল। বাবা যেতেন কাজে তদারকিতে। নতুন লাইনে ট্রেন চলত। সেসব বাবাকে দেখতে হত। আর মজাটা হল, যেদিন বাবা ফিরলেন হাতে ইয়া বড় একটা ইলিশ মাছ নিয়ে। একেবারে জলের দরে কেনা। পদ্মার ইলিশ। বাবা ইন্ডিয়া থেকে এসেছেন শুনে, প্রথম নাকি দামই নিতে চায়নি মাছওয়ালা। অনেক জোর জবরদস্তি করে দাম দিতে হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ ইন্ডিয়া বলতে অজ্ঞান। কুলাউরা, আখাউরা , মহিশাসন ,-- নাম গুলো নতুন শুনল দিপু। বাবার খুব ইচ্ছে ছিল, একবার সিলেটের ছাতকে যেতে। কয়েকজনকে জিজ্ঞেসও করেছিলেন, কি করে যাওয়া যায়। কেউ কেউ বলল, ওখন যাইতা পারতা নায়। রাস্তাত মাইন পাতি রাখছে। ওটা নাকি একরকম বোমা। ভুল করে পা পড়লে, পা উড়ে যাবে। রেল লাইন পাতার সময়, আগে ভারতের সেনারা যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করত, মাইন আছে কিনা। তারপর শ্রমিকরা যেত লাইন বসানোর কাজে।

          বাংলাদেশে প্রচুর বিদেশী জিনিষ পাওয়া। নিউজিল্যান্ডের গুঁড়ো দুধ। নাম রেড কাউ। কলম, শার্ট- প্যান্টের পিস, টেপ রেকর্ডার, ক্যামেরা, তেল, বিদেশী লাক্স সাবান। একসময় তো বদরপুরের বাজার ছেয়ে গেল এসব জিনিষে। আর তখনই শোনা গেল আরো একটা নতুন শব্দ,- স্মাগলিং। কেউ হয়তো বলল, অমুক বাবুর ছেলে তো স্মাগলিং করে। কাজটা যে খারাপ, সেটা বুঝতে অসুবিধে হয়নি। অমুক টি টি , ওরা বলে বটে টি টি, আসলে ওটা টি টি ই, ট্রাভেলিং টিকিট একজামিনার, ভীষণ ঘুষ খায়। কত বাজার করে দেখেছ ? যেদিন লামডিং থেকে আসে, সেদিন লাল হয়ে যায়। ওরাও নিজেদের মধ্যে বলাবলি করে,লাল্টুর বাবা এক নম্বর ঘুষখোর। কেউ হয়তো বলল, মাখনের বাবা তো ইঞ্জিনের কয়লা বেচে দেয়। রেল স্টেশন ঘিরে যত চা- মিষ্টির দোকান আছে, সব চলে কয়লার উনুনে। বিকট গন্ধ বেরোয়, যখন উনুন ধরানো হয়। চোখ জ্বালা করে। উনুন ধরে গেলে, আর ধোঁয়া নেই। কলোনিতেও কেউ কেউ কয়লার উনুনে রান্না করে। রেল গেটের পাশেই একটা ঘুপচি ঘরে কয়লা বিক্রিও হয়। মাকে বলতে শুনেছে, সবই নাকি চোরাই কয়লা। ওয়াগন ব্রেকার শব্দটা জানত। স্মাগলিংটাও জুড়ে গেল সাথে। স্কুল থেকে ফেরার পথে, কার বাবা ঘুষ খায়, কার বাবা কয়লা বেচে ইঞ্জিন থেকে, কার বাবা মদ খায়,-- এসব খবর আদান-প্রদান হতো, নিজেদের মধ্যে। আর অজান্তেই একদিন দিপু খেয়াল করে ওদের নিজস্ব একটা বন্ধুবৃত্ত তৈরি হয়ে গেছে। সিপিএম করা বাবাদের ছেলেদের দল, কংগ্রেস করা বাবাদের ছেলেদের দল, কিছুই না করা বাবাদের ছেলেদের দল। আরো আছে,-- রামকৃষ্ণ মিশনের শিষ্য , রাম ঠাকুরের শিষ্য, বাবামনির শিষ্য, অনুকূল ঠাকুরের শিষ্য,--এরকম দল আছে বড়দের মধ্যে।  দিপুদের কলোনিতে দুই পরিবার মিশনের শিষ্য। এরমধ্যে দিপুর মা-বাবা আর উল্টো কোয়ার্টারের পুরকায়স্থ কাকু। দিপু কাকু ডাকে বটে, কিন্তু দিপুর বাবা ওঁকে দাদা বলেন। মা বলেছিলেন, কাকু না, জেঠু ডাকবি। কিন্তু সে ছোট বেলা থেকেই কাকু ডেকে অভ্যস্থ। উনিও সেটা হাসি মুখে মেনে নিয়েছেন। মা কাকুর স্ত্রীকে দিদি বলে ডাকেন। কিন্তু দিপু ডাকে কাকিমা। অথচ ডাকার কথা জেঠিমা। পুরকায়স্থ কাকুর সামনে মা মাথায় ঘোমটা দেন। মুখোমুখি কোয়ার্টার। বিকেলে মা- কাকিমা- জেঠিমাদের আসর বসে। একেকদিন একেক জনের বারান্দায়। শীতের সময় ঘরে। সেই আসর দশ-পঁচিশ খেলার । শীতের বিকেল। একটু পরেই জাঁক করে ঠাণ্ডা পড়বে। কুয়াশায় ঢেকে যাবে চারদিক। টিমটিমে তিনটে হলুদ বাল্ব রহস্য ছড়াতে থাকে। লক্ষ্মী পুজোর রাতে শিশিরে ভিজে যাবে ঘাস। আর ভেসে আসবে শিউলির ঘ্রাণ। এদিক ওদিক থেকে ভেসে আসছে, সুর করে এক ঘেয়ে পড়া মুখস্থ করার আওয়াজ। পাশের কোয়ার্টারের সজলের স্বভাবই  হল, শুরুতে নাকি সুরে ‘এ্যাঁএএএ’ করে একটা লম্বা টান দিয়ে, একই লাইন আট দশ বার পড়ার। সেটা এরকম, ‘এ্যাঁএএএ পানিপথের যুদ্ধে বাবর… এ্যাঁএএএ পানিপথের যুদ্ধে বাবর… এ্যাঁএএএ পানিপথের যুদ্ধে বাবর ইব্রাহিম লোদিকে… এ্যাঁএএএ ইব্রাহিম লোদিকে…’, ইস্ , বিরক্তির এক শেষ। মজা লাগে শুনতে, আর দিপু সেই একঘেয়ে ‘এ্যাঁএএএ’-তে মজে যায় তবু। তার হাতের কলম থেমে যায় অঙ্কের খাতায়। আর ঠিক তখনই মায়ের চোখে পড়ে যাবে সেটা। ঝাঁঝালো একটা চিৎকার ভেসে আসতেই, সম্বিত ফিরে পায় দিপু। কলমটা তুলে নেয়। আর নতুন শেখা এ স্কোয়ার প্লাস বি স্কোয়ার প্লাস টোয়াইস এ বি মকশো করতে থাকে । স্কুলের স্যারেরা বলেছেন, নতুন কোর্স শুরু হবে। একটা ওল্ড কোর্স, আরেকটা নিউ কোর্স। ওরা সিক্স থেকে এক লাফে চলে যাবে ক্লাস এইটে। সেভেন আর পড়তে হবে না। ইতিহাস, ভূগোল বিদায় নিচ্ছে। পাতার পর পাতা দশ মার্কের উত্তর লিখতে হবে না। ১ নম্বর, ২ নম্বর-এর প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে। দিপু এখন ক্লাসের বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম চারের মধ্যে থাকে। সে নিজেই বোঝেনি কি করে এটা হল। সে ছিল মাঝারি মানের ছাত্র। ফাইভে আবাক হয়ে গেল প্রোগ্রেস রিপোর্ট হাতে নিয়ে। সে চার নম্বর হয়েছে। অসীম তিন। পিকু দুই। প্রদীপ প্রথম। সেবার পুরষ্কার পেলো। আলেকজান্ডার দ্যুমার কারসিকান ব্রাদার্স। অংক আর ইংরেজিতে আশী শতাংশ নম্বরের জন্য আরো দুটো বই। কিশোর ভারতী সংকলন আর এ টি দেবের ইংলিশ টু বেঙ্গলী অভিধান। পাঠ্য বইয়ের বাইরে, এই প্রথম তার গল্পের বইয়ের কল্পরাজ্যে প্রবেশ। স্কুলে একটা লাইব্রেরী আছে। কার্তিক স্যার লাইব্রেরী দেখতেন। একদিন সাহস করে ঢুকে পড়ে লাইব্রেরীতে। স্যার একটা বই তুলে দিলেন,- রবিনসন ক্রুশো। পরে ওটা ওদের র‍্যাপিড রিডার ছিল। তবে মূল ইংরেজিতে। ক্রুশোর দ্বীপটা যেন দেখতে পায় মনে মনে।

সেদিন বাবা এলেন গম্ভীর মুখে। কথা হচ্ছিল মায়ের সাথে। কলোনিতে চাপা উত্তেজনা। রেডিওতে খবর এল। গোটা কলোনি স্তব্ধ হয়ে খবর শুনছে। আট মে থেকে সারা দেশে রেল ধর্মঘট। বাবা সে রাতেই চলে গেলেন শিলচর। মামার বাড়িতে। কলোনির কাকু- জেঠুরা গা ঢাকা দিচ্ছেন একে একে। কিছুদিন পর পুলিশ, সি আর পি আসতে লাগল গভীর রাতে। কাকিমা-জেঠিমারা কয়লার ইঞ্জিনে জল ঢেলে দিলেন। সপরিবারে সবাই আস্তানা গেড়েছেন রেল লাইনের উপর। স্তব্ধ সারা দেশের রেল লাইন। অনেকের চাকরী গেল। কেউ জেলে। একদিন ধর্মঘট উঠে গেল। বহুদিন পর বাবাকে বলতে শুনবে, জর্জ ফারনান্ডেজ একটা বিট্রেয়ার। রেল ধর্মঘট উঠে যাবার পর, রেল শহরটাই কেমন যেন ঝিমিয়ে গেল। তবে খুব বেশী দিনের জন্য নয়।

সেই রাতেও গোটা কলোনি খবর শুনল স্তব্ধ হয়ে। দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় গলার স্বরকে, অনেকটা খাদে নামিয়ে,  পড়ে যাচ্ছেন, রাষ্ট্রপতি দেশে জরুরি অবস্থা জারী করেছেন। এই সময়টা পড়া থেকে ছাড় পাওয়া যেত। মা কিছু একটা সেলাই – ফোঁড়াই করতে করতে শোনেন। বাবা ঘরে থাকলে, পালঙ্কে বসে, ওটা  বিয়ের পালঙ্ক, চোখ বুজে , মাথা সামনে ঝুঁকিয়ে , শুনছেন। আর  দিপু পড়ার টেবিলে বসেই শোনে, তারপর , এক পা ,এক পা করে রেডিওর পাশে এসে দাঁড়ায়। সমাজ বিদ্যার জ্ঞান দিয়ে সে যা বোঝে, তা ঝাপসা ; কিন্তু কঠিন সময় যে আসবে, বোঝে।  কিছুদিনের মধ্যেই টের পাওয়া গেল,পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। স্কুল শুরু হচ্ছে ঘড়ি ধরে, ট্রেন চলছে রেলের ভাষায় রাইট টাইমে, সমস্ত কলোনি সাফসুতরো। ঘড়িই এখন সমস্ত কিছুর চালক। বন্ধ হয়ে গেছে রেলের ইউনিয়নের সভা। দিপুর বাবা সিপিএম অফিসে যান না। কেউ রাজনীতির কথা-টথা বলে না। ফিসফিস করেও না। দেওয়ালেরও কান আছে। যুগান্তর পত্রিকায় শুধু ইন্দিরা গান্ধী  কি বললেন, সেসবই ছাপায়। অনেক বড় বড় নেতা জেলে। এমনকি রেল ইউনিয়নের কয়েকজন নেতা জেলে। কিছুদিন পর তাদের ছেড়ে দিল জেল থেকে। চাকরিও চলে গেল। ট্রেনের কামরায় লেখা হল, 'দেশের সম্পত্তি নিজের সম্পত্তি ভেবে রক্ষা করুন'। এসব নিয়ে কিছু রসিকতাও শোনা গেল। পুরোনো সব দেওয়াল লিখন মুছে, নতুন  শ্লোগান এল। কম কথা, বেশি কাজ। মানুষ বেজায় খুশি। কালোবাজারী নেই। দুর্নীতি নেই। ঘুষ নেই। সবাই কাজ করে যাচ্ছে ঘড়ি ধরে। দেশ প্রগতির পথে। ট্রাকের পিছন , বাসের পিছনে লিখে রাখা। রেল হাসপাতালে দেখল নতুন একটা কথা,- হাম দো, হামারা দো। আমরা দুই, আমাদের দুই। জন্ম নিয়ন্ত্রন, জন্মনিরোধক শব্দগুলো নিয়ে জোর আলোচনা চলে লাস্ট বেঞ্চের দিকে। খেলার সময় , মাঠেও এসব নিয়ে গভীর আলোচনা হয়। নিরোধ শব্দটা অজানা রহস্যের ইসারা দেয়। দেখার কৌতুহল বাড়ে। সবচেয়ে মুস্কিলে পড়ে ওদের বি-সেকশনের নীরদবরণ পাল। পড়ার চাপ বাড়ছে দিপুর। রেল ইনস্টিটিউট লাইব্রেরীতে পেয়ে গেল অঢেল বইয়ের সন্ধান।  বাবার নামে কার্ড করে বই নিয়ে আসে। পড়ার বইয়ের আড়ালে সেই বই সে পড়তে গিয়ে মায়ের চোখে ধরা পড়ে যায়। রফা হল , দুপুরে বা খেলার সময় পড়তে পারবে। মাঝেমধ্যে শিল্পীকে দেখে। সে দেখতে অনেকটা সুমিতা সান্যালের মত। সুমিতা সান্যাল খুব বেশী বই করেননি । নবকল্লোল-এর পাতায় মাঝেমাঝে ছবি থাকে। বাবা এসব মা'র জন্য আনেন। মা ওকে নবকল্লোল ধরতে দেন না। ওটা বড়দের পত্রিকা। কি করে যেন দিনগুলো কেটে গেল। এখন সে জেনে গেছে ন‍র-নারীর মধ্যেকার গোপন রহস্য। ওদের বিজ্ঞান বইয়ে একটা চ্যাপ্টারই আছে, নাম,- রেচন। কোনো স্যার ওটা পড়ালেন না। অসীম একদিন ধর স্যারকে জিজ্ঞেস করে বসল, স্যার , রেচন পড়াবেন না? ক'দিন পরই টেস্ট পরীক্ষা। যদি প্রশ্ন আসে? স্যার নির্বিবাদে বললেন, ওটা সিলেবাসে নেই। অবশ্য সকলেই চ্যাপ্টারটা গোগ্রাসে গিলে ফেলেছে।দিপু চ্যাপ্টারটা মলাটের ভিতরে ঢুকিয়ে রেখেছে। যেন দেখাটাও অসভ্যতা। মেট্রিক শেষ। অখন্ড অবসর। বাবলুর সাথে জব্বর বন্ধুত্ব হয়েছে। হাঁটতে হাঁটতে বদরপুর ঘাট চলে যায়। লক্ষ্মী সিনেমা পেরোলেই চারদিক ফাঁকা। ওদিকে স্টেট বাসের ডিপোর অন্ধকারে কখনো দেখে, অস্পষ্ট নারী-পুরুষ , গভীর আলিঙ্গনে আবদ্ধ। 

    এরমধ্যেই খবর এল, নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধী পরাজিত হয়েছেন। কলোনিতে বাজি পুড়ছে। সেই রাতে দিপু  আর বাবলু রেলের ওভারব্রিজে দাঁড়িয়ে দেখে, একটা ইঞ্জিন ঝুকঝুক করতে করতে ধোঁয়া উড়িয়ে চলে গেল, ব্রীজের নিচ দিয়ে। তখনো জানে না ওরা, এরকম আর কোনোদিনই , এজীবনে ওরা দাঁড়াবে না, ঝুঁকে, ব্রীজের উপর থেকে। জীবনের কিছু মুহুর্ত , দিপু পরে উপলব্ধি করে, যে,  আচমকাই এসে চলে যায়। আর ফেরে না।

( ক্রমশঃ )

 

 

 


Comments

Popular posts from this blog

বিশেষজ্ঞ

দাদার কীর্তি

আবছায়া (পর্ব নয়) / সৌমিত্র বৈশ্য