তোমার চরণ
#
চৈতন্য এসেছ প্রাণে, মন জুড়ে গান
দিনভর কত কাজ, ক্ষেত ও খামার
মনে হয় সব কিছু তোমার বাহার
সহজে পেয়েছি যা, তা তোমারই তো দান
##
পাকাল মাছের মত থাকেনি জীবন
গোপনে রেখেছি যত লীলা-অভিসার
মেখেছি তোমার ফেনা, সমুদ্র-বিস্তার
দিনান্তে
পড়ুক ঘরে, তোমার চgরণ ।
অ্যানিমেল প্ল্যানেট // সৌমিত্র বৈশ্য
#
ভিতরে অনেক জন্তু, -- তারা সব জেগে ওঠে গভীর নিশীথে
শুনি তাদের জান্তব চিৎকার, দীর্ণ হাহাকার
হায়েনার নীল চোখ জ্বলে থাকে মনের দেয়ালে
দলবদ্ধ হিংস্র চিতারা শুধু রক্তের লোনা স্বাদ পেতে চায়
শিথিল স্নায়ুর ভিতর সবুজ লাউডগা সাপ,--
সে উদ্যত ফণা মেলে আছে, আর নড়ে ওঠে আগ্রাসী ময়াল
#
যুগান্ত-বাহিত এই আদিমতা,-- খাদ্য ও খাদক
সার্থক মানবজনম
আর কি পাব না কখনো
বাদুড়
#
স্তব্ধকাম, শরীর লাগে না ভালো, মর্ষকাম হোক
খুবলে নিয়েছে চোখ, তবু নিস্তার নেই, হেনেছে চাবুক
#
অগ্নিকাম,
জ্বলে উঠল চাঁদের শরীর প্রবল ধর্ষকামে
দহনে, দংশনে
ছিন্নভিন্ন হতে গিয়ে, আজ তাই
কামার্ত
জোছনা, ছড়িয়ে পড়েছে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ বনে, শ্বাপদের মত
#
রুদ্ধকাম,
আধোলীন স্বপ্নের ভিতরে, স্পর্শে কাঁপে নীলছায়া
নিষেধ-বিহীন
এই গভীর ও সাদা সাটিনের মসৃণতা লুব্ধ করে,
পিচ্ছিল,
আঠালো করে তোলে, তবু কাঁকড়ার দংশন থেকে অনেক দূরে থেমে যায়
#
রিপু ও শরীর ওড়ে, পাশাপাশি, সাঁঝের আকাশ
জুড়ে, বাদুড়ের মত—
শর্মিলা চানু // সৌমিত্র বৈশ্য
#
কারা উঁকি মারে, জলপাই রঙের আড়ালে
সকলে ফিরেছে ঘরে, সুধু সে ফেরেনি
যে ফেরেনি, তার ঘের আজ অরন্ধন
স্তব্ধ হয়ে আছে মাটির উঠোন
#
জলপাই রঙের আঁধার নেমে এলে
আঁধারে হারিয়ে যেতে হয়,-- এটা প্রাচীন নিয়ম
তবুও তার ফেরার প্রতীক্ষায়, আত্মজন উপবাসে হয়েছে কংকাল
শুধু সে দেখেছে চেয়ে, নৈশ তাঁবুর আড়ালে, মেরুদণ্ড বেয়ে
নামে
হিমঝরা
কালাশনিকভ
সান্ধ্য-প্রলাপ, দিনলিপি ( ৫ই
আশ্বিন )
#
আকাশের ওই নীল দেবতা অকস্মাৎ নদীর শিয়রে নেমে এসে, রচনা
করেছেন নিসর্গের যাবতীয় পার্থিব খেলা। অপ্রতিম বৃক্ষরাজি, বালুচর, ডিঙিনৌকা,রুপালী
মীনের লাজুক উত্থান ও জলের প্রাকৃত বিস্তার,-- সবকিছু এত মৃদু ও নতুন ; অথচ কী
আশ্চর্য দেখ, চারদিক জুড়ে শুধু রঙ্গিণীদের আরক্তিম নাচ, আকাশের তলে। তাদের
অহংকারের রোদ গায়ে এসে লাগে। বহুকাল মৃত্যুহীন তাদের হৃদয়। তথাপি প্রাচীন শীত নেমে
এলে , মনে হয়, এ-পৃথিবী প্রবলভাবে দ্রাক্ষা-সিঞ্চিত। একদিন সব ভুল মুছে গেলে, জেগে
উঠব আমরা এক বিলীন ঘুমের দেশে। ফিরে আসবে পুরাতন বন্ধুরা সব একে একে। আজ তাই
গুটিয়ে নিয়েছি ডানা, অহংকারী রোদের ভিতর। সব প্রতীক্ষার শেষে, রাতের নিসর্গ জুড়ে
নক্ষত্রের মালা। রাতের দেবতা এসে , সাজিয়ে দিয়েছেন আমাদের সুখ-দুঃখের ডালি।
কুকুর
#
লাথি খাওয়া কুকুর, গাঢ় বেদনায়, ছুটে যায়
এমন ভুবনের খোঁজে, যেখানে মানুষের পদাঘাত নেই ;
এই মূক, বাদামী জীবন,
উচ্ছিষ্টে পালিত, বড় দয়াপরবশ ;
পথই ঠিকানা তার, একান্ত আশ্রয়—
ঝড়-জল বর্ষায় কাতর তার সমগ্র জীবনে,
একটিই ভয় তাকে তাড়া করে ফেরে,--
মানুষের সবল, নির্দয় পদাঘাত ।
শর্মিলা চানু
#
কারা উঁকি মারে, জলপাই রঙের আড়ালে
সকলে ফিরেছে ঘরে, সুধু সে ফেরেনি
যে ফেরেনি, তার ঘের আজ অরন্ধন
স্তব্ধ হয়ে আছে মাটির উঠোন
#
জলপাই রঙের আঁধার নেমে এলে
আঁধারে হারিয়ে যেতে হয়,-- এটা প্রাচীন নিয়ম
তবুও তার ফেরার প্রতীক্ষায়, আত্মজন উপবাসে হয়েছে কংকাল
শুধু সে দেখেছে চেয়ে, নৈশ তাঁবুর আড়ালে, মেরুদণ্ড বেয়ে
নামে
হিমঝরা
কালাশনিকভ
সান্ধ্য-প্রলাপ, দিনলিপি ( ৫ই
আশ্বিন )
#
আকাশের ওই নীল দেবতা অকস্মাৎ নদীর শিয়রে নেমে এসে, রচনা
করেছেন নিসর্গের যাবতীয় পার্থিব খেলা। অপ্রতিম বৃক্ষরাজি, বালুচর, ডিঙিনৌকা,রুপালী
মীনের লাজুক উত্থান ও জলের প্রাকৃত বিস্তার,-- সবকিছু এত মৃদু ও নতুন ; অথচ কী
আশ্চর্য দেখ, চারদিক জুড়ে শুধু রঙ্গিণীদের আরক্তিম নাচ, আকাশের তলে। তাদের
অহংকারের রোদ গায়ে এসে লাগে। বহুকাল মৃত্যুহীন তাদের হৃদয়। তথাপি প্রাচীন শীত নেমে
এলে , মনে হয়, এ-পৃথিবী প্রবলভাবে দ্রাক্ষা-সিঞ্চিত। একদিন সব ভুল মুছে গেলে, জেগে
উঠব আমরা এক বিলীন ঘুমের দেশে। ফিরে আসবে পুরাতন বন্ধুরা সব একে একে। আজ তাই
গুটিয়ে নিয়েছি ডানা, অহংকারী রোদের ভিতর। সব প্রতীক্ষার শেষে, রাতের নিসর্গ জুড়ে
নক্ষত্রের মালা। রাতের দেবতা এসে , সাজিয়ে দিয়েছেন আমাদের সুখ-দুঃখের ডালি।
কুকুর
#
লাথি খাওয়া কুকুর, গাঢ় বেদনায়, ছুটে যায়
এমন ভুবনের খোঁজে, যেখানে মানুষের পদাঘাত নেই ;
এই মূক, বাদামী জীবন,
উচ্ছিষ্টে পালিত, বড় দয়াপরবশ ;
পথই ঠিকানা তার, একান্ত আশ্রয়—
ঝড়-জল বর্ষায় কাতর তার সমগ্র জীবনে,
একটিই ভয় তাকে তাড়া করে ফেরে,--
মানুষের সবল, নির্দয় পদাঘাত ।
Comments
Post a Comment