প্রথমে ভেবেছিলাম, শিরোনামটি দেব, ‘অথ বাত ঘটিত বাত-চিৎ’ ; পরে ভেবে দেখলাম, রচনার শিরে স্থিত নামটিই উপযুক্ত হবে। কারণটা পরে বলছি। আগে এই রোমহর্ষক ঘটনাটি বলে নেই। তবে, সকল রোমহর্ষক ঘটনাই, যার জীবনে ঘটে, তার জন্য হর্ষবর্ধক নাও হতে পারে। অন্ততঃ এই ক্ষেত্রে তো মোটেও নয়। সক্কাল সক্কাল মোবাইলে, ভবেশ-গিন্নীর সন্ত্রস্ত কণ্ঠের আহ্বানে, শশব্যাস্ত হয়ে ছুটলুম ভবেশ বাবুর গৃহে। গিয়ে যা দেখলাম, তাতে আমার চোখ তো কপাল টপকে, তালুতে উঠে গেল। আমি উৎকন্ঠিত কণ্ঠে ভবেশ বাবুকে জিজ্ঞেস করলাম,’আপনার নিজের শরীরের কোথাও কি জং ধরা লোহায় কেটেছিল ? ভবেশ বাবু ক্ষীণ কণ্ঠে জবাব দিলেন, ‘না’। বাঁশে কেটেছে ? কাঁচে কেটেছে ? পাক্কা গোয়েন্দার মত যত প্রশ্নই করি, সব কিছুরই একই উত্তর তিনি,-- গোয়েন্দা গল্পের পাকা অপরাধীর মত দিচ্ছেন, – ‘না’। তাঁকে প্রথম দর্শনে, আমার কেমন যেন সন্দেহ হচ্ছিল, তিনি হয়তো ধনুষ্টংকার রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। কী রকম যেন অষ্টাবক্র মুনির চেহারা (অষ্টাবক্র মুনিকে আমি দেখিনি। শুধু বিবরণ পড়েছি।) পরিগ্রহ করতে চলেছেন। ভবেশ...
দাদার কীর্তি সৌমিত্র বৈশ্য বঙ্গ জীবনে একমাত্র সৌরভ গাঙ্গুলি, যেমন বাঙালির চিরন্তন ‘দাদা’, তেমনি সারা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরও দাদা। বাঙালি অবশ্য তাঁর নামের আগে বড়দা, ছোড়দা, মেজদা ইত্যাদি কোনোরকম ‘দা’ যুক্ত করেনি। অবশ্য খেলা ছাড়ার পর, তিনি যখন টেলিভিশনে অনুষ্ঠান করতে এলেন , তখন তাঁর সেই অনুষ্ঠানটির নাম রাখা হয়েছিল, ‘দাদাগিরি’। দাদাগিরি শব্দটি কিন্তু মোটেও নিরীহ শব্দ নয়। দাদা সম্বোধনটির মধ্যে আপাত নিরীহ ভাব আছে ; কিন্তু, দাদাগিরি যারা করেন, সেই সব দাদারা কিন্তু মোটেও নিরীহ নন। কারণ, এই দাদারা বাহুবলের অধিকারী হন এবং আর কোন কোন বলের খেলায় পারদর্শী, সেটা সাধারণ মানুষের বোধের বাইরে। এই সব দাদারা পথে বেরোলে, সামনা সামনি দেখা হয়ে গেলে সাধারণ মানুষ, – যাদের আমরা বলি,-আমজনতা, - তারা খুব সমীহ করে চলেন। এমনকি তাঁদের মুখের দিকে তাকিয়ে, কেউ কেউ আকর্ণ হাসি ঝুলিয়ে রাখেন মুখে। যদি একবার দাদার চোখে পড়ে যান। হয়তো দেখা গেল, দাদা তাকিয়েই দেখলেন না। কিন্তু দস্তুর হিসেবে তিনি মুখের হাসির ছবিটি ঝুলিয়েই রেখে দেন। একবার এক ভদ্রলোক এক দাদাকে দেখে এরকম হাসি মুখ করে ...
পূর্ণা সবে ক্লাস সিক্স। ছোটবেলা থেকেই কমিকস পড়ার পোকা। পূর্ণার মা পুষ্পিতা একটি উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের ইংরেজির বিষয় শিক্ষিকা। তবু যুগের হাওয়ায় গা না ভাসিয়ে, মেয়েকে বাংলা মাধ্যম স্কুলে ভর্তি করে দিলেন। আত্মীয় স্বজনরা তো অবাক। আজকাল কেউ বাংলা স্কুলে পড়ায় ? ইংরেজিটা না শিখলে এ যুগে ভালো চাকরী পাবে না। তাছাড়া, সরকারী স্কুলে তো লেখাপড়ার পাট নেই বললেই চলে। কোনো ডিসিপ্লিনও নেই। কি শিখবে তোমার মেয়ে? পুস্পিতার বর সুনির্মল অবশ্য বরাবরই ওর বুদ্ধি বিবেচনার উপর ভরসা রাখে।তাই পুষ্পিতা যখন মেয়েকে বাংলা স্কুলে ভর্তি করতে চাইল, তখন আত্মীয়রা যে যাই বলুক না কেন, কোনো বাধা দেয়নি। পাঠশালা শেষ করে পূর্ণা ভর্তি হয়ে গেল, সরকারী গার্লস স্কুলে। কারণ, পুষ্পিতার যুক্তিটা ছিল, আমি নিজে একটা বাংলা হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষিকা হয়ে নিজের মেয়েকে ইংরেজি স্কুলে পড়ালে, সেটা ভণ্ডামি হয়ে যাবে। আর স্কুলের পড়ায় যদি কোনো খামতি থাকে, সেটা আমি বাড়ীতে পুষিয়ে নেব। আর বাড়ীতে সদস্য বলতে, সুনির্মলের বিধবা মা ছাড়া আর কেউ নেই। উনি সংসারের কোনো সাতে-পাঁচে থাকেন না। ঠাকুর পুজো, রান্নাঘর আর টি ভি সিরিয়েল নিয়েই থাকেন। ...
সুন্দর!
ReplyDelete