Posts

Showing posts from May, 2023

বহুরূপে সম্মুখে তোমার রবীন্দ্র ঠাকুর

Image
    চৈত্র ক্যালেন্ডার ও পঞ্জিকা হইতে বিদায়  লইয়াছে। বাঙালী কাহারা,-- ইহাও নাকি একপ্রকার ধাঁধা বিশেষ,- সনাতন এমত একটি সন্দর্ভ একদা জ্ঞাপন করিয়াছিল। ইহা লইয়া যথা সময়ে, আবকাশ মত  বিস্তারিত বলিব। ‘এসো হে বৈশাখ' , গাহিয়া বৈশাখকে আবাহন করিল। স্মরণে আছে, ১৪০০ সালের আবির্ভাব লগ্নটিকে স্মরণীয় করিয়া  রাখিতে, আপামর বাঙালী কী প্রকারে ব্যগ্র হইয়া উঠিয়াছিল। শিলচর শহরেও তাহার ব্যত্যয় হয় নাই। নৃত্য-বাদ্য-গীত ও আবৃত্তি সহযোগে, শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয়ে একটি মহা আয়োজিত হইয়াছিল। তখন নৃত্যগুরু মুকুন্দ ভট্টাচার্য জীবিত ছিলেন। মধ্যাহ্ন কালে আয়োজিত সেই মহতী আনন্দযজ্ঞে, ঔৎসুক্য বশতঃ , আমিও সামিল হইয়াছিলাম। একাধারে পয়লা বৈশাখ, তদুপরি নবাগত ১৪০০ সালের আবাহনে, নৃত্য-বাদ্য-গীত ও আবৃত্তির এহেন আয়োজনে উপস্থিত হইবার লোভ সম্বরণ করিতে পারি নাই। হলুদ পাঞ্জাবী ও শাদা পায়জামা পরিধান করিয়া উপস্থিত হইলাম। শহরের সকল সম্ভ্রান্ত বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতি পিপাসুগণ উপস্থিত হইয়াছেন এবং আমি 'হংস মধ্যে বক যথা' হইয়া, পরিচিত কোনো  বিশিষ্ট ব্যক্তির সহিত অকস্মাৎ দৃষ্টি বিনময় হইলে, মৃদু হাস্য সহযোগে...

কূটকচালি সনাতন বিশ্বাস উবাচ

কূটকচালি সনাতন বিশ্বাস উবাচ

      রাজনীতির মিউটেশন        সম্প্রতি চাকুরী হইতে সেবা নিবৃত্ত হইয়াছি। বৃদ্ধ বলদের স্কন্ধ হইতে সরকার গুরু দায়িত্বের জোয়াল তুলিয়া লইয়াছে। প্রাতঃকাল হইতে উর্ধশ্বাসে দফতরে ছুটিবার তাগাদা নাই। চা-বিস্কুট সহযোগে ‘বার্তালিপি’ পত্রিকাখানা আদ্যোপান্ত পাঠ করিয়া, বাজারের থলি হস্তে, হেলিয়া দুলিয়া বাজারে গিয়া নয়ন ভরিয়া নতুন আলু, লঙ্গাই বেগুন, ফুল কপি, সীম ইত্যাকার শব্জি দেখিয়া পুলকিত হই। মাছ বাজারে গিয়া জলের সোনালী ফসল হইতে শুরু করিয়া যাবতীয় মীনরূপে মজিয়া, মুগ্ধ হইয়া সর্ব কনিষ্ঠ মূল্যের মৎস্য ক্রয় করিয়া মৎস্য শিকার পর্ব সমাপ্ত করি। অতঃপর, আলু,ফুল কপি, সীম ও পালং শাক কিনিবার সময় সদ্যাগত আগ্নিমুল্য লঙ্গাই বেগুনের প্রতি সতৃষ্ণ দৃষ্টিপাত করিয়া, বাজার হইতে নিষ্ক্রান্ত হই। শব্জি বাজারে যাহারা সদ্য পতিত হইতেছে, তাহারা অগ্নিমূল্য এবং স্পর্শ করিলেই হাতে ছ্যাঁকা লাগিতেছে। আমি বুদ্ধিমানের মত, নবাগত কোনও প্রকার শব্জি বা কুলীন মৎস্যকূলের প্রতি হস্ত প্রসারিত না করিয়া, বিক্রেতার কাছে মুল্যমান জানিয়াই, প্রসন্নচিত্তে সত্য যে কঠিন, তাহা উপলব্ধি করিয়া, সহজে গ্...

কূটকচালি সনাতন বিশ্বাস উবাচ

পাঁচমিশালী সৌমিত্র বৈশ্য    কার্তিক  বিদায় লইল। শৈশব কালে ঋতু পরিবর্তনের আভাস পাইতাম। গ্রীষ্ম হইতে বর্ষা আসিলে, পাঠশালা হইতে ফিরিবার সময়, তুমুল বৃষ্টিতে ভিজিয়া, সর্দি কাশি হইলে, পাড়ার  হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার দাদু, সাদা কাগজে পাউডার মুড়িয়া, ফাউন্টেন পেনে নীল কালিতে লিখিয়া দিতেন,'দৈনিক দুই মাত্রা'।  সঙ্গে ডাক্তার দাদু ইহাও স্মরণ করাইয়া  দিতেন,--'সিজন চেঞ্জ হইতেছে, ঋতু পরিবর্তনের সাবধানে থাকিতে হয়'। ডাক্তার দাদুর এই 'দৈনিক দুই মাত্রা',অতি সুস্বাদু। তবে দুই দিন ক্লাস কামাই দিয়া, নানা প্রকার সুখাদ্য ও লেখাপড়া হইতে অব্যাহতি  পাইয়া, সুস্থ হইয়া পুনর্বার পাঠশালা অভিমুখে যাত্রা করিতে হইত। আশ্বিনের মধ্যভাগেই শিশির পড়িত। শেফালি ফুটিত। সন্ধ্যা কালে শিউলি ফুটিলে, সুগন্ধ মলয় বাতাসে বাহিত হইয়া, ঘ্রাণেন্দ্রিয় মথিত করিত। আমরা বুঝিতাম, পূজা আসন্ন। আশ্বিনেই রৌদ্র সোনালী বর্ণ ধারন করিত। সূর্যদেব তাঁহার উত্তাপ স্তিমিত করিয়া, সমস্ত চরাচর  জুড়িয়া মায়ালোক রচনা করিতেন। মহালয়া হইতে পাঠশালা ছুটি হইত। আমাদিগের ন্যায় বালকগণের সকল স্ফূর্তি, সকল গার্হস্থ্য অনুশাসনের তোয়াক্কা ...